ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

 ৫ শতাংশের বেশি কমল তেলের দাম


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
 ৫ শতাংশের বেশি কমল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালি ঘিরে কয়েক সপ্তাহের সামরিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আপাতত ক্ষান্ত দিয়েছে। এ খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে অপরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে। গত দুই সপ্তাহের সংঘাতে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছে—এ খবরে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে হামলার পর আর কোনো নতুন বিমান অভিযান চালানো হয়নি। অন্যদিকে শুক্রবারের পর থেকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নতুন হামলা চালায়নি।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ রোববার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনার জন্য কিছুটা সময় দিতে চান।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই কৌশলগত নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কম থাকলে বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে। কেননা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর অল্প কিছুদিন বাকি, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে আছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তেলের দাম আরও কমবে—এমন প্রত্যাশা এখনই করা ঠিক হবে না। হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, ‘খবরের প্রভাবে বাজারে বিক্রির চাপ দেখা দিলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে, আমরা তা মনে করি না। এর সঙ্গে এখন লোহিত সাগরের সংকটও নতুন করে যোগ হয়েছে।’

হেলিমা ক্রফট আরও বলেন, ‘সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে গেলেই যে দুই দিকের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।’ গত জুনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বৈশ্বিক তেল পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পেট্রলের বাজারেই নয়, অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও চাপে পড়েছে।

জুনের শেষ দিকে পরিচালিত ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও ফোকালডাটার জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ভোটারদের মাত্র ৩৬ শতাংশ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলা চালাল এবং ইরানও পাল্টা হামলা চালাল, এ দফা সংঘাত তীব্র হওয়ার আগেই জরিপটি করা হয়েছিল।

মোটরচালকদের সংগঠন এএএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ দশমিক ১১ ডলার। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর আগে এ দাম ছিল ৩ ডলারের কম।

পেট্রলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশে উঠেছে, অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণের বেশি।

এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আগামী কয়েক দিনের বৈঠকে আলোচনা করবে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি)।

গত বছরের শেষ দিক থেকে নীতিনির্ধারণী সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ—যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে।

সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বুধবারই সুদের হার বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনার হার রোববার কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় এ সম্ভাবনা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

বার্কলেজের অর্থনীতিবিদ জোনাথন মিলার বলেন, জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতি গ্রহণে বাধ্য হতে পারে। তবে তাদের ধারণা, আপাতত নীতিনির্ধারণী কমিটি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে।

Link copied!